সকল মেনু

সবশেষ

বড়লোক হলে ঠিকই উদ্ধার হতো’—ছিনতাই হওয়া সোনার চেইন ফিরে পেতে অসহায় সাকিয়ার আকুতি

ফন্ট সাইজ:
0Shares

বয়স ৬০ বছর। অসুস্থ শরীর নিয়ে পেটের দায়ে ঝিনাইদহ শহরের মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা করেন সাকিয়া খাতুন। ভিক্ষা করে পাওয়া সামান্য অর্থ দিয়েই চলে তাঁর সংসার, পরিশোধ করেন ঘরভাড়া। অভাব-অনটনের মধ্যেও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে তৈরি করেছিলেন দেড় ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম সম্বল। কিন্তু প্রায় এক মাস আগে শহরের ক্যাসেল ব্রিজ এলাকায় এক ছিনতাইকারী তাঁর গলা থেকে চেইনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই চেইনটি ফিরে পাওয়ার আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

বর্তমান বাজারমূল্যে চেইনটির দাম প্রায় দুই লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন সাকিয়া খাতুন। দীর্ঘ দুই দশকের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে গড়া এই সম্বল হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অসহায় এই নারী। এখন তাঁর একটাই চাওয়া, যেভাবেই হোক চেইনটি উদ্ধার করে দেওয়া হোক।

সাংবাদিকদের দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাকিয়া খাতুন। বুকভরা কষ্ট আর অভিমান নিয়ে তিনি বলেন, “গরিব মানুষ কি সোনার চেইন ব্যবহার করতে পারে না? ওসির কাছে কন, আমার চেইনটা উদ্ধার করে দিক। আমি গরিব মানুষ বলে এক মাস হয়ে গেল, কেউ চেইনটা উদ্ধার করল না। বড়লোক হলে ঠিকই খুঁজে বের করত!”

তাঁর এই আকুতি শুধু হারানো একটি সোনার চেইন ফিরে পাওয়ার আবেদন নয়; বরং একজন অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার ও সমান গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশাও। দীর্ঘদিনের কষ্টে জমানো শেষ সম্বল ফিরে পেতে তাঁর এই আহাজারি স্থানীয় মানুষের মনেও প্রশ্ন তুলেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের কোনো সোনার চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ বা ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে জানান তিনি।

দীর্ঘ ২০ বছরের সঞ্চয়ে গড়া চেইনটি ফিরে পাওয়ার আশায় এখনো অপেক্ষায় সাকিয়া খাতুন। তাঁর প্রশ্ন—অসহায় ও দরিদ্র মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারের দাবি কি সমান গুরুত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে না?

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।