সকল মেনু

সবশেষ

মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই—ত্রাণমন্ত্রী দুলু”

ফন্ট সাইজ:
0Shares

খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে এবং মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

​তিনি বলেন, “আজকের এই কিশোর ও যুবকরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথ দেখাতে এবং নেতৃত্বগুণ অর্জনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।”

​শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল’ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি প্রান্তে ক্রীড়াঙ্গনের প্রসার এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লালমনিরহাটের মতো মফস্বল এলাকায় এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উঠে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক টুর্নামেন্ট আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের এই বয়সটি ফুটবল শেখা ও চর্চার জন্য একদম উপযুক্ত সময়। এই বয়স থেকে যদি তাদের সঠিক নার্সিং করা যায়, তবে আগামী দিনে বাংলাদেশ আরও অনেক মানসম্পন্ন ফুটবলার পাবে।

​বক্তব্যের এক পর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফাইনাল খেলায় শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্রের হৃদয় কুমার অন্তরকে বিকেএসপিতে ভর্তি এবং তার যাবতীয় দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণায় উপস্থিত দর্শক ও ক্রীড়ামোদীদের মাঝে দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

​ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি’র দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন। লালমনিরহাট জেলা থেকেও নতুন কুঁড়ির প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করে এই জেলাকে আলোকিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পরাজিত দলের খেলোয়াড়দের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, “হার-জিত খেলারই একটি স্বাভাবিক অংশ। হারতে হারতেই জিততে শিখতে হয়, এটাই জীবন।”

​জমকালো ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই ফাইনাল খেলায় নবাবেরহাট ক্লাবকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বড়বাড়িহাট বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র। হাজার হাজার দর্শকের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ফাইনাল ম্যাচটি এক আনন্দঘন ক্রীড়া উৎসবে পরিণত হয়।

​ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে ছিল ক্রীড়াপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। প্রিয় দল ও প্রিয় খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগাতে দর্শকরা গ্যালারিতে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে পুরো মাঠ মুখরিত করে তোলেন। খেলা শুরুর পূর্বে লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছোট্ট সোনামণিরা চমৎকার গান ও সুরের তালে তালে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করে গ্যালারির দর্শকদের মাতিয়ে তোলে।

​লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক একেএম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাস এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​খেলা শেষে নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্রের হৃদয় কুমার অন্তর শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক, রেদোয়ানুল বারী রোমান ‘প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল’ এবং রানার্সআপ দলের আকাশ ‘টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়’ নির্বাচিত হন। প্রতিযোগিতা শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও চমৎকার সব পুরস্কার তুলে দেন।

ফন্ট সাইজ:
0Shares

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।