লালমনিরহাটে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার হারিয়ে যাওয়া চেকের পাতা জালিয়াতি করে ২৪ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ মোর্শেদা বেগম মনি বেতন উত্তোলনের জন্য রূপালী ব্যাংক লালমনিরহাট কর্পোরেট শাখায় একটি হিসাব পরিচালনা করতেন। গত ১০ জুন ২০২৫ তারিখে তার চেক বই হারিয়ে যায়। বিষয়টি জানিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লালমনিরহাট সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং স্থানীয় পত্রিকায় হারানো চেক বইয়ের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে চেকগুলোর বিপরীতে ‘স্টপ পেমেন্ট’ দেওয়ার আবেদন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় পর গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হারিয়ে যাওয়া ওই চেক বইয়ের একটি পাতা—চেক নম্বর SBLS ১৫৬২৩১৪—অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, চেকটিতে ২৪ লাখ টাকা উল্লেখ করে তা রূপালী ব্যাংক লালমনিরহাট শাখায় নগদায়নের জন্য জমা দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষিকা আগে থেকেই চেকটির বিপরীতে ‘স্টপ পেমেন্ট’ দিয়ে রাখায় এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি আটকে দেয়। একই দিন ‘Stop Payment’ ও ‘Insufficient Fund’ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেওয়ার স্মারক (ডিজঅনার স্লিপ) প্রদান করা হয়।
মামলায় মেহেদী হাসান সম্পদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার এলাকার আহাদুল ইসলামের ছেলে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তের সঙ্গে শিক্ষিকার কোনো ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্ক নেই। তার দাবি, হারিয়ে যাওয়া চেক অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষিকা মোছাঃ মোর্শেদা বেগম মনি বাদী হয়ে লালমনিরহাটের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১-এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সি.আর. ৬৫১/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে।
আদালত বাদীর প্রাথমিক জবানবন্দি গ্রহণের পর দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ৯ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য লালমনিরহাট সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে স্থানীয় সাংবাদিকরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আপনাকে কিছু বলবো না, যা বলার কোর্টেই বলবো।”
মামলার বাদী শিক্ষিকা মোর্শেদা বেগম মনি বলেন, তার করা জিডি, পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি এবং ব্যাংকের নথিপত্রে চেক হারানো ও ‘স্টপ পেমেন্ট’-এর বিষয়টি স্পষ্ট রয়েছে। তিনি সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এখন সিআইডির তদন্তেই বেরিয়ে আসবে—হারিয়ে যাওয়া চেকটি কারা সংগ্রহ করেছিল, কীভাবে তাতে ২৪ লাখ টাকার অঙ্ক বসানো হলো এবং ব্যাংকে সেটি নগদায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।