মোঃ নাহিদ ইসলাম (জয়) ক্রাইম রিপোর্টার নাটোরঃ
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ২নং বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের খাকসা–বাগডোব সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার না করে দুই নম্বর ও চার নম্বর খোয়া এবং নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক স্থানে পানি ব্যবহার না করেই রোড রোলার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাকসা গ্রামের সঙ্গে বাগডোব এলাকার যোগাযোগ সহজ করতে সম্প্রতি সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে খাকসা উত্তরপাড়া মেইনরোড থেকে কৃষিজমির ফসল পরিবহনের সুবিধার্থে প্রায় ১২০০ মিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে কাজের শুরু থেকেই নির্মাণের মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কের একাংশে ভালো মানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হলেও অন্য অংশে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খাকসা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দুলাল হোসেন বলেন, “শুরু থেকেই দেখছি রাস্তার কাজে ভালো মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেক জায়গায় দুই নম্বর ও চার নম্বর খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তা বেশিদিন টিকবে না।”
আরেক বাসিন্দা মোঃ সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, “রাস্তা তৈরির সময় নিয়ম অনুযায়ী পানি ব্যবহার করার কথা। কিন্তু অনেক জায়গায় পানি না দিয়েই রোড রোলার চালানো হচ্ছে। এতে রাস্তার শক্তি কমে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সেলিম মোল্লা বলেন, “সরকার রাস্তা নির্মাণের জন্য টাকা দিচ্ছে, কিন্তু সেই টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। আমরা চাই কাজটি যেন সঠিকভাবে করা হয়, যাতে রাস্তা দীর্ঘদিন টিকে।”
একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নসির উদ্দিন বলেন, “রাস্তার নিচে যে বালু ও খোয়া দেওয়া হচ্ছে তা খুবই নিম্নমানের। অনেকেই বলছেন এটি চার নম্বর খোয়া। এমন উপকরণ ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাবে।”
খাকসা গ্রামের বাসিন্দা ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ মোজাম্মেল হক বাটুল বলেন, “এলাকাবাসী সবাই চায় রাস্তার কাজ ভালোভাবে হোক। কিন্তু আমরা যেটা দেখছি, তা নিয়ে উদ্বেগ আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করলে প্রকৃত অবস্থা সামনে আসবে।”
এ বিষয়ে কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কিছু জায়গায় নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি থাকতে পারে। তবে পরবর্তীতে ভালো মানের খোয়া ও বালু ব্যবহার করে কাজ ঠিক করে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ঠিকাদার বলেন, “শুরুতে কিছু জায়গায় যেটা হয়েছে, সামনে আমরা ভালো মানের খোয়া ও বালু ব্যবহার করব।” তবে কবে নাগাদ সেই উন্নত মানের উপকরণ ব্যবহার করা হবে—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।
এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ২ নম্বর বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমিন আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, শুরু থেকেই যদি নির্মাণকাজে মানের সঙ্গে আপস করা হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ও হবে।
এলাকাবাসী জানান, খাকসা–বাগডোব সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তাই স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণকাজে মানসম্মত খোয়া, বালু ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি থাকতে হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে সড়কের গুণগত মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
