মালিকুজ্জামান কাকা
ন্যানো লোনের নামে ভয়ঙ্কর ফাঁদ। এই ফাঁদ পেতে নিরীহ সরল মন মানুষ কে বিপদে ফেলে অর্থ আদায় ও আত্মসাত করছে একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র। এই চক্রের ফাঁদে প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ স্বর্বশান্ত হচ্ছে।
nanoloan95.com নামে একটি গুগল এড্রেসে এ যশোরের একজন ভুক্তভুগি ৪০০০০ হাজার টাকা লোন আবেদন করেন। তিনি গুগলে ঐ ঠিকানায় দেখেন সোনালী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক তাদের পার্টনার। নির্ধারিত ৪০০০ টাকা বিকাশে জমা দেওয়ার পরে সোনালী ব্যাংক লোগো সমৃদ্ধ একটি হোয়াটস্যাপ নম্বর আসে যার নম্বর ০১৮৫৭-৭০৭৯০৩। এর পর ঐ হোয়াটস্যাপ কল রেকর্ডিং মেসেজে তাকে বলা হয় ২৭৫০ টাকা বীমার জন্য দিতে হবে। এরপর সন্দেহ হলে খোঁজ খবর নিয়ে ঐ ভুক্তভুগি জানতে পারে এটা প্রতারক চক্রের একটি ফাঁদ। ০১৩৩২-১৩৫১৯৫ নম্বরে বিকাশে টাকা জমা হয়।
প্রশ্ন উঠেছে বছরের পর বছর সকলের চোখের সামনে এই প্রতারণা চলে আসলেও কোন ব্যাংক এই অসাধু অপ কর্মকারী চক্রের বিরুদ্ধে কেন কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না। ভুক্তভুগিরা ধারণা করছে অসাধু কোন কোন ব্যাংক কর্মকর্তা এসব চক্রের সাথে জড়িত থাকতে পারে।
যশোরের আব্দুর রহিম নামে একজন ভুক্তভুগি জানান, এক লাখ টাকা ঋণ আবেদন করে তার প্রায় ১৫ হাজার টাকা গচ্চা গেছে।
যশোর শহরের জামান নামে একজন ভুক্তভুগি বলেন, তার প্রায় ১০ হাজার টাকা প্রতারক চক্র আত্মস্বাত করেছে। সারা দেশে এদের অনলাইন লোন প্রতারনা অব্যাহত রয়েছে। এরা সহজ সরল অশিক্ষিত স্বল্প শিক্ষিত মানুষ কে ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধ আয় করছে। এরা বিকাশ নগদ ব্যাবহার করে অনলাইন প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে।
এসব ভুক্তভুগি ঐ বাটপার অনলাইন চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
খোঁজ নিতেই জানা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব এ আকর্ষণীয় মজাদার ও লোভনীয় বিভিন্ন আর্থিক প্রস্তাব থাকে। সরল বাঙালী এসব বিজ্ঞাপনে আকর্ষণ বোধ করে তাদের ফাঁদে পা দিয়ে আর্থিক ভাবে নিঃস্ব হয়। প্রয়োজনীয় অর্থ হারিয়ে এরা দুই চোখে অন্ধকার দেখে। সমস্যা আরো এই যে বহু বছর ধরে এসব অপরাধী চক্র প্রকাশ্যই তাদের ঠগ জোচ্চুরি অব্যাহত রেখেছে। কিন্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কোন ব্যাবস্থাই নেই না।
যশোরের ভুক্তভুগিরা জানিয়েছেন তারা যারা এই ধারায় প্রতারণার শিকার প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেই এই উদ্যোগ।
