বিশেষ প্রতিবেদন ইরান যুদ্ধ
রিপোর্টার্স ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কুটনৈতিক সংবাদদাতা
বাংলাদেশের অনেক পরিবার মনে করছে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নিরাপত্তা সমস্যা প্রকট হয়ে উঠতে পারে এবং তার জের ধরে অনেককে দেশেও ফিরে আসতে বাধ্য হতে পারে।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে চলতি অর্থ বছরে এখন পর্যন্ত যত প্রবাসী আয় এসেছে তার প্রায় ৪৫ শতাংশই এসেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের ওই ছয় দেশ থেকে।
এর মধ্যে সরকারি হিসেবে সৌদি আরবেই আছে প্রায় ২০ লাখ আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আছে ১০ লাখ বাংলাদেশি।
এছাড়া ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখের বেশি এবং বাহরাইন ও কুয়েতে দেড় লাখ করে বাংলাদেশি আছে।
আবার যুদ্ধ শুরুর পর অনেকে দেশে এসে আটকা পড়ে ভিসার মেয়াদ হারানোর আশংকায় পড়েছেন।
এর মধ্যে কাতার সরকার এ ধরনের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
এছাড়া ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ৬ দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে একই সঙ্গে দেশগুলোর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ওইসব দেশের সরকারের বিবৃতি বা নির্দেশনা অনুযায়ী চলার অনুরোধ করা হয়।
“আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করার দৃশ্য, বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা, সামরিক অভিযান, সামরিক ঘাঁটি, সামরিক যানবাহনের চলাচল কিংবা এ ধরনের সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি বা ভিডিও ধারণ করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও আপলোড করা, অথবা ভিত্তিহীন কোনো সংবাদ প্রচার না করতে” ওই সব দেশের সরকারের যে নির্দেশনা সেগুলো সব বাংলাদেশিকে মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস।
এছাড়া বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, খোলা আকাশের নিচে না যাওয়া এবং অযথা জমায়েত না হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় নগদ টাকা, আইডি, পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক, পানি ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবসময় নিজের সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এদিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শনিবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেছেন, প্রবাসীদের সহায়তার জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি হটলাইন চালু করেছে এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন আমরা যৌথভাবে কাজ করছি।
“মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করবে। প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ,” বলেছেন তিনি।
