সুমন আহমদ, সুনামগঞ্জ, প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, ট্রাক চালক এবং সাধারণ কৃষকরা।
সরেজমিনে দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ সরকার কর্তৃক তেলের দাম বাড়ানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল ও ট্রাক চালকরা জানান, বাজারে ডিজেলের স্বাভাবিক দাম ১১৮-১২০ টাকার আশেপাশে থাকার কথা থাকলেও বিক্রেতারা বর্তমানে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তেল নেই বলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হচ্ছে, আবার বেশি দাম দিলে ঠিকই তেল পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবের অজুহাত তুলে ব্যবসায়ীরা আগাম মুনাফা লোটার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেন সরকার দাম বাড়ানোর আগেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পকেট কাটছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের এখন চড়া দামে তেল কিনে গাড়ি চালানো বা চাষাবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসী ও সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তেলের এই ঊর্ধ্বগতি নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত আসেনি। তিনি বলেন, সরকার থেকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। যারা যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।ইউএনও আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে।
