পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনা সদর হাসপাতাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়রানি, মাদকাসক্তি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আকাশ (পিতা: ফরহাদ কাজী) নামের ওই ব্যক্তি গত প্রায় পনের বছর ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হাসপাতাল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীদের হয়রানি, অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। অনেকেই জানান, হাসপাতালে আসা নারী রোগী ও তাদের স্বজনদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য ও ইভটিজিংয়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং গোপনে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল এলাকায় তার চলাফেরা ও কার্যকলাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা দায়ের হলেও নানা কারণে সেগুলোর কার্যকর ফলাফল দেখা যায়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে ভয় পান বলেও জানা গেছে।
এছাড়া হাসপাতাল এলাকায় দালালচক্রের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, এই ধরনের দালাল ও প্রভাবশালী চক্রের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং চিকিৎসা নিতে এসে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পাবনার সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতালকে দালাল ও সন্ত্রাসমুক্ত করা জরুরি। তারা দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে স্থানীয়রা বলেন, পাবনা সদর হাসপাতালকে একটি নিরাপদ ও সেবাবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে হলে দালালচক্র, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
