বিশেষ প্রতিবেদন ইউক্রেন যুদ্ধ রিপোর্টার্স | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা
“প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে পারবো, এটা কল্পনাও করতে পারতাম না। যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ ছিল,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা মোহন মিয়াজি।
মি. মিয়াজি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউক্রেনের বিপক্ষে যুদ্ধে গিয়েছিলেন।
এরপর যুদ্ধক্ষেত্রে যে ভয়বহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই দেখা যায় মানুষ মরে পড়ে রয়েছে।”
“আসলে ফ্রন্টলাইন (সম্মুখযুদ্ধ) মানে প্রতিটা সেকেন্ডেই মৃত্যুর ভয়। সব সময় গুলি, আর্টিলারি, ড্রোন হামলা চলতেই থাকে…যেখানে-সেখানে ল্যান্ডমাইন। হাঁটার সময় একটু এদিক-সেদিক হলেই মাইন বিস্ফোরণ হয়ে প্রাণ চলে যেতে পারে,” যোগ করেন মি. মিয়াজি।
এই যুদ্ধে তার এক বন্ধুও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান।
“আমার বন্ধু আশিকুর, ওর বাড়ি নোয়াখালী, সেও আমার সঙ্গে একসাথে যুদ্ধ গিয়েছিল। কয়েক মাস আগে ও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মারা গেছে,” বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে মি. মিয়াজির।
খাবারের কষ্টের বিষয়ে বলেন, “যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে প্রায়ই খাবার পৌঁছাতে সমস্যা হয়। তখন দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়।”
এমন পরিস্থিতিতে রুশ সৈন্যশিবির থেকে পালিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন মুন্সিগঞ্জের এই তরুণ। যদিও পালিয়ে আসার বিষয়টি সহজ ছিল না।
