বিশেষ প্রতিবেদন ধারাবাহিক-০১
রিপোর্টার | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা
বাংলাদেশে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য প্রবেশের অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ এবং বিদেশি নাগরিকসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (দক্ষিণ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,
এ ঘটনায় জিএমপি সদর থানায় এফআইআর মামলা নং–৪, তারিখ: ০৫ মার্চ ২০২৩, জিআর নং–৮০, ধারা 25B/25D, The Special Powers Act, 1974 অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৪ মার্চ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারি শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত ও রেলপথে অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে ট্রেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য দেশে এনে দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছিল, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযানকালে
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ অভিযানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন
মোঃ খোরশেদ আলম (বিপি-৮৩১১১৪২৫২৮)
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, গোয়েন্দা বিভাগ (দক্ষিণ), গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বাংলাদেশ বিসিএস পুলিশ ক্লাবের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি।
অভিযানে অংশ নেন পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ান (বিপি-৭৬০২০৬১৬৩০), দারোগা মোঃ রাজিব হোসেন (বিপি-৮৩০২০৮৬২১০), সহকারী দারোগা বিবেকানন্দ দেবনাথ, দারোগা মোঃ ইব্রাহিম আনন্দসহ জিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়,
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন প্রধান চোরাকারবারির প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তবে মূল হোতারা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, চোরাকারবারি চক্র রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়—কোতোয়ালি, ওয়ারী, মতিঝিল, গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা—বাসা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করত। অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা কিছু পণ্য সরকারি গুদাম থেকেও অবৈধভাবে বের করে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানাকে অবহিত করে ৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তারা জরিমানা ও রাজস্ব ফি পরিশোধ করে মুক্তি পান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ আমদানি ও চোরাচালান রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতারে তদন্ত চলছে।
(চলবে)
