মোঃ নাহিদ ইসলাম (জয়) নাটোর জেলা ক্রাইম রিপোর্টারঃ
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ফুটবলের আঘাতে আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার দূর্লভপুর ও বিরকুৎসা রেলস্টেশন সংলগ্ন লাহেরীপাড়া মাঠ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নলডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দূর্লভপুর এলাকার একটি মাঠে ফুটবল খেলা চলাকালে একটি বল পাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সময় বলটি সজোরে আঘাত হানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা জেবা রায়সা (২০)-এর পাঁজরে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেন—এমনটাই দাবি পরিবারের।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওইদিন পুনরায় ফুটবল খেলার সময় একটি বল গিয়ে লাগে জেবা রায়সার শাশুড়ির গায়ে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে মনজুর আলম (৪৫), তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩৮) ও জেবা রায়সাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মারধর করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—মৃত আব্দুল আজিজ সরদারের ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী মোঃ বাবলু সরদার (৫০), মৃত ফজেল সরদারের ছেলে মোঃ রহিম সরদার (৭২), মৃত শুকুর আলী সরদারের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন সরদার (৪৫), মৃত গফুর সরদারের ছেলে মোঃ সুলতান সরদার (৪৫) এবং মোশাররফ সরদারের ছেলে মোঃ হোসেন সরদার (২৫)।
আহত পরিবারের সদস্যরা জানান, “আমাদের অনাগত সন্তান মারা গেছে। বিচার তো পাইনি, উল্টো প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন মন্টু বলেন, “বলের আঘাতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাতের ঘটনা শুনেছি। মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জেনেছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি।”
নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ হাতে পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
