আরমান হোসেন রাজু,
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় গ্রাম্য সালিসকে কেন্দ্র করে মায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি আক্রমণে নুরুজ্জামান নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের ইকবালপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাকরুল, রবিউল ও সাইদুলের নেতৃত্বে একটি গ্রাম্য সালিস বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিহত নুরুজ্জামানের মা লিলি বেগমকে ওই সালিসে উপস্থিত হতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সালিসে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় রবিউল, সাইদুল ও আলামিন লিলি বেগমকে শাসাতে থাকেন। একপর্যায়ে সালিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিলি বেগম বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে রাহিমা বেগম, তার মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম এবং তার দুই বোন আরজিনা ও রনজি বেগম তার ওপর হামলা চালান।
এ সময় মাকে বাঁচাতে ছেলে নুরুজ্জামান এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর অসুস্থ অবস্থায় লিলি বেগম বাড়ি ফিরতে চাইলে কথিত সালিসদাররা জোরপূর্বক তাকে সালিসে বসিয়ে লোক দেখানো একটি মীমাংসা সম্পন্ন করেন।
পরে নুরুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ভ্যানযোগে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নুরুজ্জামানের স্ত্রী ছালমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী নির্দোষ। শুধু মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাল। কথিত সালিসদার ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফাঁসির দাবি জানাই।”
ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
