আহসান হাবীব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলী আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় সীমান্তবর্তী ঐতিহাসিক দারাসবাড়ি মাদরাসা-মসজিদ প্রাঙ্গণে কৃষক, ডাক্তার, শিক্ষক, ছাত্র-জনতা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতিতে তিনি এ ইশতেহার প্রকাশ করেন।
ইশতেহারে স্থানীয় উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব, পর্যটন সম্ভাবনা বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন ড. কেরামত আলী। তিনি বলেন, শিবগঞ্জকে একটি উন্নত, জনবান্ধব ও সক্রিয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করতেই তার এ পরিকল্পনা।
ইশতেহারের প্রধান অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তিনি জানান, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রযুক্তি নির্ভর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে তারা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও এগিয়ে যেতে পারে।
এছাড়া আম ও কৃষিকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে ইপিজেড গঠনে সরকারি উদ্যোগের দাবিও ইশতেহারে স্থান পায়। তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা মানের চাঁপাই আমের যথাযথ ব্যবহার হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিবগঞ্জ হতে পারে নতুন সম্ভাবনার কেন্দ্র।
ড. কেরামত আলীর ঘোষিত ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয় সোনামসজিদ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে সীমান্ত এলাকা ও জেলা শহরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচার কার্য বাস্তবায়ন, গৌড় এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংস্কারের মাধ্যমে পর্যটন নগরী গড়ে তোলা এবং গৌড় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে স্থান পায়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে বলে তিনি মত দেন।
নিজের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জনগণের সামনে বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশের ঘোষণা দেন ড. কেরামত আলী। ইশতেহার ঘোষণার পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
