মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী ,
খুলনা বিভাগীয় প্রধানঃ
‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। এ উপলক্ষে আজ সোমবার ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও র্যালির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।
সচেতনতায় কুইজ প্রতিযোগিতা
শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। খাদ্যে ভেজাল, স্বাস্থ্যঝুঁকি, সঠিক উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তার করণীয় বিষয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা হুমাশা তোশা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফিন হোসেন ও আতিফ মাহমুদ।
‘নিরাপদ খাদ্য শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়’
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের নাগরিক দায়িত্ব। যে খাদ্য সুস্থতা ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটায়, সেই খাদ্যের নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের সবার কর্তব্য।”
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার সাধন সরকার। তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “খাদ্যে ভেজাল দেওয়া কেবল অপরাধ নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। একজন সচেতন ভোক্তাই পারেন নিরাপদ খাদ্যের পাহারাদার হতে।”
বিশিষ্টজনের বক্তব্য
ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাবিয়া সুলতানা পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:
মোঃ লুতফর রহমান, জেলা শিক্ষা অফিসার।
এস.এম. শাদমান-উল-আলম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
মোঃ আব্দুর রউফ, জেলা তথ্য অফিসার।
নিশাত মেহের, সহকারী পরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সভাপতির বক্তব্যে সাবিয়া সুলতানা পারভিন শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার রাখার পরামর্শ দেন। আলোচনা সভা শেষে একটি সচেতনতামূলক র্যালির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
