বিশেষ প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্ট
রিপোর্টার্স | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কুটনৈতিক সংবাদদাতা
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোমায় আচ্ছন্ন যুবক হরিশ রাণার লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত।
বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন দীর্ঘদিন ধরে লাইফ সাপোর্টের সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এমন রোগী, বা বহু বছর ধরে কোমায় রয়েছেন পুরোপুরি মেডিক্যাল সাপোর্টের উপর নির্ভরশীল, চিকিৎসার মাধ্যমে যাকে সুস্থ করে তোলার আর কোনো সম্ভাবনাই নেই- সেই সমস্ত ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক কৃত্রিম সাপোর্ট প্রত্যাহার করে নেওয়াকে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু বলা হয়।
ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যু মঞ্জুরের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ৩১ বছরের হরিশ রাণার পরিবার। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বুধবার হরিশ রাণার পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনের রায় ঘোষণা করেন।
হরিশের বাবা অশোক রাণা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আমাদের পরিবারের কী অবস্থা বুঝতেই পারছেন। আমাদের কাছে এটা খুবই কঠিন। কিন্তু হরিশের জন্য হয়ত ভালো। কিন্তু ওর কথা ভেবে আমরা আদালতে আর্জি জানিয়েছিলাম।”
“ও আর ভালো হবে না। সুপ্রিম কোর্টের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ যে ওর স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।”
এর আগে, ২০১৮ সালে মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই প্রথম তার আইনি প্রয়োগ করেছে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।
আদালতের পক্ষ থেকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-কে হরিশ রাণার জীবন রক্ষাকারী মেডিক্যাল সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে।
পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুতে সায় দেওয়ার পাশাপাশি আদালত তার নজিরবিহীন এই রায়ের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, হরিশ রাণার পরিবার বরাবরই তার পাশে থেকেছে। এই রায়ে ‘যুক্তি’ হয়ত মিলবে না, কিন্তু তাতে ‘ভালোবাসা, জীবন ও হারিয়ে ফেলার’ প্রতিফলন রয়েছে।
