বিশেষ প্রতিবেদন বাংলাদেশ প্রশাসন রিপোর্টার্স | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা
বাংলাদেশের বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ব্যাপক আলোচিত হওয়া ও পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার দীর্ঘ পনের বছর পর আবার পুলিশের চাকরি ফেরত পাওয়ার খবর সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আগের বরখাস্ত আদেশ বাতিল করে তাকে বকেয়া বেতন ভাতাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
এর আগে অধ্যাপক মুহাম্মদের ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এমন অনেক ব্যক্তিকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, যারা দীর্ঘকাল আগেই চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন বা সরকার অবসরে পাঠিয়েছিল।
কিন্তু এখন নির্বাচিত সরকারের সময়েও একই চর্চা অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে।
সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কর্মরতদের মধ্যে এবং এটি আমলাতন্ত্রের পেশাদারিত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে মনে করেন তারা।
তাদের মতে, যারা বঞ্চিত ছিলেন তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা দিয়ে ভিন্নভাবে কাজে লাগাতে পারে সরকার কিন্তু সেটি না করে দীর্ঘকাল ধরে কাজে সম্পৃক্ত না থাকা এসব ব্যক্তিকে সরাসরি একই পেশায় ফিরিয়ে আনলে সেটি কর্মরত যারা আছেন তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে।
যদিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণের’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
সেখানে বলা হয়েছিল, “বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে”।
