।
খুলনা ব্যুরো : একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনায় খুলনা’র দিঘলিয়া উপজেলা উত্তাল হয়ে উঠছে হত্যা,মারামারি,দস্যুতা,চুরি, ভাঙচুর,লুটপাট,গোটা দিঘলিয়া উপজেলাবাসীকে বিমর্ষ করে তুলেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় সাধারণ মানুষ শংকিত হয়ে পড়েছে। উত্তরনে রাজনৈতিক ও সামজিক বন্ধনকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার উপরে মতপ্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত কয়েকটি ঘটনা থেকে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটীতে সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের নেতা মুরাদ খানকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে একই দলের একটি ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এ হত্যাকান্ডটি দিঘলিয়া উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। হত্যাকারিরা মুরাদ খান এর পায়ের রগ কেটে ঘটনাস্থলে আটকে রেখে হত্যা নিশ্চিত করেছে। মুরাদ খান এর স্ত্রী, ৩টি কন্যা সন্তান ও ৪মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। লোমহর্ষক এ হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার পথের বাজারে সর্বস্তরের জনসাধারণের উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিচারের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠছে গোটা দিঘলিয়া উপজেলা।
অন্যদিকে উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটী গ্রামে মায়ের কোলে ৩ মার্চ নিরাপদে ঘুমিয়েছিল ২২দিন বয়সী শিশু পুত্র মুনতাসীর। কিন্তু পাষন্ড পিতা নাহিদ শেখ পুত্র মুনতাসীরকে
শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে চিরদিনের মত ঘুম পাড়িয়ে দিলেন। পরবর্তীতে শিশুটিকে একটি পরিত্যাক্ত সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে দিয়েছে ওই পাষন্ড পিতা। হত্যাকারি পিতা নাহিদ শেখ(২৮) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ০৩মার্চ ২২দিন বয়সী শিশু মুনতাসীর মাতা ” মৌ “এর কোলে ঘুমিয়েছিল। ভোর ৫টার দিকে পিতা নাহিদ শেখ শিশুটিকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী খোকন মল্লিকের পরিত্যাক্ত সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। ঘুম ভেঙে মা ” মোসাম্মাৎ মৌ ” শিশু মুনতাসীরকে দেখতে না পেয়ে স্বামী নাহিদকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তাকে সেনহাটীতে রেখে এসেছেন। শিশুটির মা তার বাচ্চার কাছে যেতে চাইলে নাহিদ গাড়িতে উঠিয়ে তাকে ফরিদপুর নিয়ে আসে। স্বামী নাহিদের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে স্ত্রী মৌ’র আত্ম চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন জড়ো হয়ে দু’জনকে ফরিদপুর সদর থানায় সোপর্দ করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ স্বীকার করে তার ২২দিনের পুত্র সন্তানকে হত্যা করে খোকন মল্লিকের বাড়ির সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে দিয়েছে। ফরিদপুর সদর থানা পুলিশ দিঘলিয়া থানায় কামারগাতি ফাঁড়ি ইনচার্জকে বিষয়টি অবগত করলে মঙলবার গভীর রাতে শিশু মুনতাসীরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এঘটনায় দিঘলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। শিশু মুনতাসীর হত্যার অভিযোগে নাহিদ শেখ আদালত প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় ফুঁসে উঠছে বারাকপুর।
এদিকে গত ৩ মার্চ দিঘলিয়ার বারাকপুরের ঘোষগাতী গ্রামে ট্রলি ও মোটরসাইকেল চালকের মধ্যের বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ৩জন গুরুতর আহত হয়। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতরা হলেন ঘোষগাতী গ্রামের গনি গাজীর ছেলে ট্রলি চালক শামীম (২৮), মহেশ্বরপুর গ্রামের মান্নান শেখের ছেলে সজীব (২৬) এবং ঘোষগাতী গ্রামের মৃত সালাহউদ্দিনের ছেলে নাসির (৪৫)। তাদের খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে দিঘলিয়া থানার এসআই লিটন মন্ডল জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন গাজীরহাট ইউনিয়নের ডোমরা গ্রামে বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল অনুমানিক সাড়ে নয়টায় একদল দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জাহিদুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট করে। দুর্বৃত্তরা নগদ টাকাসহ আনুমানিক ৫লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়।এছাড়া সেমি পাকা বাড়ির ওয়ালসহ ভেঙে চুরমার করে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় সাড়ে ১২লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়।
ঘটনার পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলে পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে মামলা নং-০৯।
