বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় সংসদ
রিপোর্টার্স | বিভাগীয় প্রধান ও কূটনৈতিক
বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ তৈরি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংসদের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ এখন প্রস্তুত।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণে কি থাকবে, তা সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করতে হয়।
অর্থ্যাৎ যখন যে রাজনৈতিক সরকার থাকে, সংসদের প্রথম অধিবেশনে বা বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণে সেই সরকারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এর আগে রাষ্ট্রপতিরা সেভাবেই ভাষণ দিয়েছেন সংসদে। শুধু ব্যতিক্রম করেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে তাদের প্রথম সরকারে এসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে।
তিনি পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি থাকার সময় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে তৎকালীন সরকার অনুমোদিত ভাষণ পড়তেন।
তিনি ভাষণের শেষে গিয়ে দুএকটি বাক্য নিজ থেকে বলতেন এবং সেটাই শিরোনাম হতো সংবাদ মাধ্যমে।
আওয়ামী লীগের সেই সরকারের একপর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, এর পেছনে বিভিন্ন কারণের মধ্যে সংসদে বিচারপতি আহমদের স্বাধীনভাবে দুএকটি বাক্য বলার বিষয়টিও অন্যতম কারণ ছিল। যা নিয়ে সে সময় অনেক আলোচনাও হয়েছে।
এখন বিএনপি সরকার সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার ব্যাপারে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাতেই নতুন সরকার সংবিধানের বিরোধীতাকারীদের জন্য একটা বার্তা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
তারা বলছেন, আগের রাষ্ট্রপতিকে বহাল রেখে বিএনপি সরকার তাদের যাত্রার প্রথম পর্যায়ে সংসদ গঠন করাসহ সাংবিধানিক কাজগুলো সেরে নিতে চাইছে। একইসঙ্গে সংবিধান সমুন্নত রাখার যে কথা দলটি বলে আসছে, সেই অবস্থানে থাকার ব্যাপারেও একটা বার্তা দেওয়া হচ্ছে বিরোধীদের প্রতি।
কিন্তু এমন অবস্থান নিয়ে বিএনপির ভেতরেও প্রশ্ন আছে।
