বিশেষ প্রতিবেদন ইরান নেতার মৃত্যু
রিপোর্টার্স | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কুটনৈতিক সংবাদদাতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলছিলেন, “আপনি যখন ইসলামি বিপ্লবের মৌলবাদী মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করবেন, তখন ‘ওয়ালিয়াত-এ-ফাকিহ’ বা ইসলামি ধর্মীয় নেতৃত্বের সর্বময় কতৃত্বের বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারবেন না। এই মতাদর্শ একদিকে যেমন ধর্মীয়, তেমনই রাজনৈতিক আবার সামাজিকও বটে।
“রেভলিউশনারী গার্ডস জানে যে এই নীতিগুলো প্রণয়ন করলে মানুষকে সামাজিকসহ নানা দিক থেকেই সক্রিয় করা যাবে,” বলছিলেন মি. স্মিথ।
তার কথায়, “সমস্যা হচ্ছে মি. খামেনি সমগ্র মুসলিম সমাজের নেতা হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সত্যিকার অর্থে আয়াতুল্লাহ ছিলেন না এবং আয়াতুল্লাহ সিস্তানির থেকে তার মর্যাদা কিছুটা কমই ছিল”।
ফিলিপ স্মিথ বলছিলেন যে জনগণকে সংগঠিত করার জন্য ইরান ‘ওয়ালিয়াত-এ-ফাকিহ’-র মতাদর্শ ব্যবহার করেছে, আবার তার দেশের সীমানার বাইরেও রাজনৈতিক কারণে তা ব্যবহার করেছে তেহরান।
“এই মতাদর্শ ব্যবহার করেই তারা লেবাননে হিজবুল্লাহ গড়ে তুলেছে, ইরাকে ‘কতায়েব সৈয়দ আল-শুহদা’র মতো গোষ্ঠী বা পাকিস্তানের ‘লস্কর-এ-জৈনবিয়ুন’কে তারা সমর্থন দিয়ে গেছে।
মি. খামেনি বিশ্বের সব শিয়ার আধ্যাত্মিক নেতা নাও হতে পারেন, তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে তার মৃত্যু তার অনুসারীদের জীবনে প্রভাব ফেলবে।
অধ্যাপক সিমোন ওল্ফগ্যাং ফুক্স বলছিলেন, “পাকিস্তান, ভারত, ইরাক ও লেবাননের মানুষ হয়ত তাদের জীবনে মি. খামেনির ধর্মীয় আদেশগুলো অনুসরণ করেন না, কিন্তু এইসব দেশেই তার অনুসারীদের মধ্যে একটা গর্ব ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে তাকে মানুষ স্মরণ করবেন”।
