বিশেষ প্রতিবেদন ইরান যুদ্ধ
রিপোর্টার্স | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কুটনৈতিক সংবাদদাতা
প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে চলমান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তে না এলেও, এর ছাপ যে এখানেও পড়ছে সেটি স্পষ্ট। কারণ বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা বলে অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পঞ্চম দিনেই যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। ওই অঞ্চল বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম হাব হওয়ায় এই যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে গোটা বিশ্বে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে একটি ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি করবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবাদেরা।
জ্বালানি তেল বা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে বাস-ট্রাকের ভাড়া যেমন বাড়তে পারে, তেমনি বৃদ্ধি পেতে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কিংবা সারের দামও। ফলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ার সম্ভবনা থাকে, যার প্রভাব পড়তে পারে চাল, ডাল আর সবজির বাজারেও।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে পারে আমদানি করা ভোজ্যতেল, গম কিংবা চিনির দাম। যার ধারাবাহিক প্রভাব পড়তে পারে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিংবা সৌখিন পণ্যে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে যেতে পারে এদেশের সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত।
ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যেকোনো আঞ্চলিক সংঘাত আর নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে না।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজলে তার প্রতিধ্বনি শোনা যায় হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশেও।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশের অর্থনীতি হঠাৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান।
