নিজস্ব সংবাদদাতা -মাইনুল ইসলাম ইমন
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, লুটপাট ও হুমকির অভিযোগের ১৬৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ও প্রেস আইডি কার্ড উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে পুলিশ পক্ষ থেকে ‘মোবাইল কিনে দেওয়া হবে’—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফপুর ইউনিয়নের হারুলিয়া, চারিতলা গ্রামে রাজি নদী এলাকায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদীটি নিয়ে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী পক্ষ সেখানে সেচ দিয়ে মাছ ধরার উদ্যোগ নেয়, যা তাদের ভাষ্য অনুযায়ী সরকারি (খাস) জমি ও নদী দখলের শামিল।
তথ্য সংগ্রহের জন্য কেন্দুয়া থানার সার্কেল অফিসারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক সালমান আহমেদ ও তার ভাই সাংবাদিক রিজুয়ান আহমেদ। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী লিটন, বিএনপি নেতা বাবলু মাস্টারসহ তাদের সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন, প্রেস আইডি কার্ড ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পরপরই সাংবাদিকরা কেন্দুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার এবং কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ১৬৮ ঘণ্টা পার হলেও ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ও প্রেস আইডি কার্ড উদ্ধার হয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—মোবাইল উদ্ধার সম্ভব না হলে নতুন মোবাইল কিনে দেওয়া হবে। কিন্তু তাদের প্রশ্ন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পরিবর্তে শুধু মোবাইল কিনে দেওয়ার প্রস্তাব কি ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে?
এ প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল বলেছেন, “কোনো জায়গায় কোনো খাস জমি জোরপূর্বক দখল করা যাবে না। যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক, তা আমরা মেনে নেব না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, খাস জমি ও নদী দখলের বিরুদ্ধে সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের ঘোষণার পরপরই নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে নদী দখল, সরকারি জমি গ্রাস এবং তা প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। তাদের দাবি, দখলবিরোধী বক্তব্যের পরও এলাকায় জমি ও নদী দখলের তৎপরতা শুরু হওয়া এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, হাজী লিটনের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা থাকলেও তিনি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবাধে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এতে এলাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
জিডি দায়েরের পরও দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা, ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।কিন্তু পরবর্তীতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সকলের বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।
