নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এনটিআরসিএ’র বিধি-বিধান উপেক্ষা করে ঘুষ-বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত খণ্ডকালীন ১৩ জন শিক্ষককে স্থায়ীকরণের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য (ভিসি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক নির্দেশনায় আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ও সহকারী পরিচালক (কলেজ)কে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তারা টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।
অবৈধ স্থায়ীকরণে ‘নিয়োগ নাটক’
নির্দেশনায় বলা হয়, ঢাকা জেলার মিরপুর থানাধীন মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৩ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়েই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ১৩ জন শিক্ষককে খণ্ডকালীন হিসেবে যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক তদন্তে এসব নিয়োগকে অবৈধ বলা হলেও, তাদের স্থায়ীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, বয়সসীমা শিথিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
সূত্র জানায়, ওই ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল উবায়েদ মুহাম্মদ বাসেত ঠাকুরকে প্রেষণে মিরপুর কলেজে পদায়ন করা হয়। শুরুতে যোগদান নিয়ে জটিলতার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে পরবর্তীতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ ও কিছু বহিরাগত ছাত্রনেতার সঙ্গে সমন্বয় করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অনিয়ম রোধের পরিবর্তে কলেজে পুনরায় দুর্নীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত খণ্ডকালীন শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়াই তার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী তে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে সংশ্লিষ্ট সবার নজর এখন সেদিকে।
