মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, ময়মনসিংহ বিভাগের বিশেষ রিপোর্টারঃ
রীমা আক্তার (১৮) নামে এক নববধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় তৈরি হয়েছে ধুম্রজাল। নিহত রীমা আক্তার পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার বাঁশরী গ্রামের মোঃ জাকির মিয়ার মেয়ে ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের (পশ্চিম পাড়া) কোনাপাড়া গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায় রীমার স্বামী পিয়েলের ঘর তালাবদ্ধ । এ সময় কথা হয়, সাবেক ইউপি সদস্য ও পিয়েলের চাচী লাকী আক্তার (৫৫), সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুল্লাহ (৫১), চাচাতো ভাই ইব্রাহীম খলিল আলাল (৩৬), মোঃ ফারুক মিয়া (৪৯), সাইদুর মুন্সি (৬৫)সহ প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সাথে ।
তারা বলেন- মাত্র দুই আড়াই মাস আগে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয় বাঁশরী গ্রামে জাকির মিয়ার মেয়ে রীমা ও কোণাপাড়ার মৃত বিল্লাল ব্যাপারীর ছেলে পিয়েলের (২১) সাথে। এরপর থেকেই দাম্পত্য কলহ, জোর পূর্বক বিয়ে দেওয়ায় জীবনে চরম কলহ বিরাজ করছিলো তাদের । এমনকি পারিবারিক ও গ্রাম্য সালিসি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা হয়। পারিবারিক কলহ ও স্বামীকে কাছে না পাওয়ার বেদনায় নিজে রীমা আক্তার কীটনাশক বিষপানে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন বলে তারা মনে করেন।
ইব্রাহিম খলিল আলাল বলেন- নববধূ রীমা আক্তার কীটনাশক বিষ খেয়ে নিজে আত্মহত্যা করেছে জানিয়েছে রীমা নিজে। কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার এর সামনে তিনি এই কথা বলেন।
আলাল বলেন- আমি এশার নামাজের পর বাড়িতে এসে শুনি রীমা বিষ খাইছে, তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই, তখন আমার সাথে সাফায়েত সহ আরও একজন ছিল। সেখানে রীমার অবস্থা খারাপ হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করলে সেখানে যাওয়ার আগেই মারা যায় রীমা।
সাফায়েত বলেন- রীমা আক্তার বিষ (কীটনাশক) খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি বাড়িতে ছিলাম তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানতে পেরে আলাল আমি রীমা বউকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করলে আমি বাড়িতে চলে আসি।
রীমার বাবা জাকির মিয়া মুঠোফোনে বলেন- বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে চরম কলহ বিরাজ করছিল। দুই আড়াই মাস হয় তাদের বিয়ে হয় আমাদের বাড়িতে। এর মধ্যে চারদিন রীমার স্বামীর বাড়িতে গিয়া ছিলাম একটি দিনও জামাইকে পাইনি। জামাই নেশায় আসক্ত রিমা মাঝে মাঝে বলতো। বিয়ের পনের দিন পরে কাওছার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের মধ্যে ঝগড়ার সমঝোতা করা হয়েছিল। এ-র পরেও মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়ে মারধর হতো।
এক প্রশ্নের জবাবে জাকির মিয়া বলেন-স্বামী স্ত্রী দুজন দুই রুমে থাকত। যেদিন রীমার দুর্ঘটনা ঘটে সেইদিন বিকেলে রীমাকে মারধর করেছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। রীমাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেওয়ার পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে সেখানে রেখেই পালিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রীমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন-এখন থানা পুলিশ টাকা খেয়ে মামলা নিতে চায়না। মামলার বিষয় কিছু জানি না এবং আমি গরীব হওয়ায় কিছু করতে পারছি না।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন- “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
এসআই আব্দুল আউয়াল বলেন- তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গত বুধবার রাতে নববধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
