সারোয়ার পারভেজ বাবু,
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিসহ তার স্ত্রী ও ছেলেকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কারলি মধ্যপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় খোদ উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পারিবারের সদস্যরা।
উপজেলা পরিষদের এডিপি প্রকল্পের আওতায় কারলি মধ্যপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার কাজ চলছিল। ভুক্তভোগী মো. খায়রুল আমিন (৫৬) জানান, ঠিকাদার সেখানে নম্বরবিহীন অত্যন্ত নিম্নমানের ইট এবং কম পরিমাণ বালু ব্যবহার করছিলেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে রৌহা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি নুর মোমেন তাকে বাধা দেন। খায়রুল আমিনের অভিযোগ, মোমেন তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “আমি যা বলছি তাই হবে, আমি এই ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ক্যাডার।”
বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের লোকজনকে জানানো হলে প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রকৌশলী চলে যাওয়ার পরপরই নুর মোমেনের নির্দেশে প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি দল খায়রুল আমিনের ওপর হামলা চালায়।
বাবার ওপর হামলা হচ্ছে দেখে ছেলে হেদায়েতুল ওরফে সানি (২৩) বাঁচাতে গেলে তাকেও মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। ভুক্তভোগীর স্ত্রী মাহমুদা আমিন (৪৫) বলেন, “আমার ছেলেকে পাঁচ-সাত জন মিলে নাক-মুখ চেপে ধরে। আমি ছেলেকে বাঁচাতে তার গায়ের ওপর পড়লে আমাকেও লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়। আমার ছেলের চোখে ঘুষি মারা হয়েছে।”
পরে থেকে ৯৯৯-এ কল দেওয়া হয় এবং নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর পরিবারটি।
মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রৌহা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি নুর মোমেন। তিনি বলেন, “খায়রুল আমিন লেবারদের কাজে বাধা দিয়ে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাকে ধাক্কাধাক্কি করেছে। আমি বা আমার লোকজন কাউকে মারধর করিনি।” তিনি আরও জানান, এই কাজের ঠিকাদার অন্যজন তিনি নন এবং ইটের মান সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে এলজিইডি’র সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরান বলেন, “আমরা সাইটে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখনো ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়নি। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ইট দিয়েই কাজ বুঝে নেওয়া হবে। যদি সেখানে প্রথম শ্রেণির ইট না পাওয়া যায়, তবে তা দ্রুত সরিয়ে পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হবে।”
