সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরে এক অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে ছাতক থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়:- ছাতক পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাগবাড়ি এলাকার লেবারপাড়া মহল্লায় সিরাজ মিয়ার একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওই নারী। স্বামী পরিত্যক্তা হওয়ায় সন্তানদের লালন-পালনের জন্য তিনি কঠোর সংগ্রাম করছিলেন। তবে সম্প্রতি তার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের পূর্ব বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
সেই ঘটনার জেরে গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দুই যুবক অতর্কিতভাবে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে। তারা ঘরে ঢুকেই ওই নারীর ছোট ভাইয়ের খোঁজ করতে থাকে। তাকে না পেয়ে যুবকরা গালিগালাজ শুরু করে এবং ঘর ভাঙচুরের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ওই নারীকে একা পেয়ে এক যুবক ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেয় এবং জীবনের ভয় দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অন্য যুবকটি বাইরে পাহারায় ছিল বলে জানা গেছে। কুকর্ম শেষে তারা ওই নারীকে হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ছাতক থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার দুপুরে তার দেওয়া জবানবন্দি ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো.আব্দুল জলিল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। মামলার এজাহার পাওয়ার পরপরই আমরা তদন্তে নেমেছি।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষা বা ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) শাখায় পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাতক থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার পর থেকেই নামধারী ও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে পুলিশের একাধিক টিম আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। এসআই আব্দুল জলিল প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। খুব দ্রুতই আসামিরা গ্রেফতার হবে বলে আমরা আশা করছি।
এদিকে, স্থানীয় সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বর্তমানে ওই নারী ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
