নিজস্ব সংবাদদাতা -মাইনুল ইসলাম ইমনঃ
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় বিরোধীয় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিকের ওপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহতরা হলেন মোঃ রিজওয়ান আহাম্মদ ও তার ভাই সাংবাদিক মোঃ সালমান আহমেদ। ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
আদালতের কার্যক্রম
এ ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নেত্রকোনা-এ সি.আর. দরখাস্ত নং ১৪৯/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৪৫ ধারায় স্মারক নং ৩৩২/এডিএম (তারিখ: ০৩/০২/২০২৬ খ্রি.) অনুযায়ী আদালত বিরোধীয় জমির বর্তমান অবস্থা (স্থিতাবস্থা) বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী—
উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।
জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো পক্ষ শান্তি ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আগামী ২০/০৪/২০২৬ খ্রিস্টাব্দে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আদালতে হাজির থাকতে হবে।
পক্ষসমূহের পরিচয়
প্রথম পক্ষ
মোঃ রিজওয়ান আহাম্মদ
পিতা: গোলাম আহম্মদ
গ্রাম: হারুলিয়া, ডাকঘর: সাজিউড়া
থানা: কেন্দুয়া, জেলা: নেত্রকোনা
দ্বিতীয় পক্ষ
১। মোঃ হাসান মাহমুদ লিটন (৬০)
২। মোঃ পাভেল মাহমুদ (৩২), পিতা: মৃত হোসেন আহম্মদ
৩। রিফাত হাসান (১৯)
৪। রাহা হাসান (২২), পিতা: হাসান মাহমুদ লিটন
৫। বাবুল খান ওরফে বাবুল মাস্টার (৪০)
৬। সাইদুল খান (৪৫), পিতা: রঞ্জিত খান
৭। মোঃ হাছেন খান ওরফে হাছেন মেম্বার (৪৫), পিতা: মৃত দেওয়ান খান
৮। নেছার আহমেদ বাবু (৩৩), পিতা: মৃত জলিল উদ্দিন
সকলের ঠিকানা: কেন্দুয়া ও বাট্টা, থানা: কেন্দুয়া, জেলা: নেত্রকোনা
বিরোধীয় জমির তফসিল
জেলা: নেত্রকোনা
থানা: কেন্দুয়া
মৌজা: বাট্টা
এস.এ. দাগ নং: ২৪৬৬
জমির শ্রেণি: রাজিনদী
পরিমাণ: ৯.৪৫ একর
অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ হাসান মাহমুদ লিটন ও বাবুল খান ওরফে বাবুল মাস্টারের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সাংবাদিক সালমান আহমেদকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। হামলায় মোঃ রিজওয়ান আহাম্মদ ও সালমান আহমেদ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নীলাফুলা জখম হন।
এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং “আমার প্রাণের বাংলাদেশ” পত্রিকার পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল প্রাণনাশ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা এলাকায় ভূমিদস্যু চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি বিরাজ করছে এবং অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ
সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামতে পারে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক মহলের প্রশ্ন—
সাংবাদিকের ওপর হামলা কেন?
প্রশাসন এখনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে বিলম্ব হচ্ছে কেন?
তাদের মতে, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর আঘাত। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি
ভুক্তভোগী পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের দাবিসমূহ—
১. ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত
২. অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার
৩. সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
৪. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা কার্যকর রাখা
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে।
