মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী ,
খুলনা বিভাগীয় প্রধানঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার মিঠাপুকুর গ্রামে ব্যতিক্রমি নকশার নির্মিত আধুনিক সৌন্দর্য্যে মনোমুগ্ধ কর মসজিদ। যা প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি কোন বিলাশবহুল রাজপ্রাসাদ। চকচকে সাদা দেয়াল প্রবেশপথে নকশাখচিত কাঁেচর দরজা। ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে ঝকঝকে নামাজের স্থান ও নরম কার্পেটের সাজঘর। কিন্তু সত্যটা জানলে বিস্মিত হবেন আপনিও। কারণ এটি কোন রাজপ্রাসাদ নয়, এটি একটি মসজিদ। মসজিদটির অবস্থান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার মিঠাপুকুর গ্রামে। যার নাম হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রা:) জামে মসজিদ। এটি এখন শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি হয়ে উঠেছে শিল্প, সৌন্দর্য ও প্রশান্তির এক মিলন মেলা। মসজিদটির ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায় এর ব্যতিক্রমি নকশার মাহাত্ম্য। মেঝেতে রয়েছে উন্নতমানের চকচকে টাইলস। আর প্রতিটি পিলারে এমন সুক্ষ কারুকাজ, দেখে মনে হবে যেন শিল্পির হাতে গড়া জীবন্ত অলংকার। ২৫ শতক জমিতে নির্মিত এই মসজিদ একসাথে ১৫ থেকে ১৮শ’ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। আন্ডারগ্রাউন্ডেও রয়েছে নামাযের ব্যবস্থা। তবে এ মসজিদে নেই কোন দানবাক্স, বাইরে থেকে টাকা সংগ্রহের কোন সুযোগ। এমনকি মসজিদটি পরিচালনায় নেই কোন কমিটি। একক নেতৃত্বে চলছে মসজিদের সকল কার্যক্রম। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মসজিদটি একনজর দেখতে ও নামাজ পড়তে ভীড় করছেন অনেকে। মসজিদটির সৌন্দর্য্যে দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, এমন নান্দনিক ও পরিকল্পিত মসজিদ এলাকায় আগে দেখা যায়নি। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে শুধু এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন।
জানা গেছে, পাশ্ববর্তী যশোর জেলার আমেরিকাপ্রবাসী মো. আব্দুল খালেক তার শ্বশুর মরহুম সিরাজুল ইসলামের জমিতে নিজ উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তার তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠে এই ব্যতিক্রমধর্মী স্থাপনা।
স্থানীয়দের মতে, এ মসজিদ এখন কালীগঞ্জের গর্ব, পাশাপাশি জেলার একটি নতুন দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে মসজিদ দেখতে যাওয়া আল-আমিন বলেন, ‘মসজিদটিতে দানবাক্স না থাকা ও বাইরে থেকে অর্থ সংগ্রহ না করার বিষয়টি খুব ভাল লেগেছে। এত সুন্দর মসজিদ আশপাশের এলাকায় নেই’।
মসজিদ দেখভালের দায়িত্বে থাকা শাহাবুল তরু বলেন, ‘পুরো রমজান মাস জুড়ে মসজিদে ইফতারির ব্যবস্থা রয়েছে। আমার দুলাভাই আব্দুল খালেক, তার স্ত্রী সিরুতুননেছা আলপনা ও তার মেয়ে মারিয়া অঙ্কন পিতার অবর্তমানে মসজিদের সকল দায়িত্বভার গ্রহণ করবে।’
উল্লেখ্য, শশুর মৃত. সিরাজুল ইসলামের জমিতে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন পাশ^বর্তী যশোর জেলার আমেরিকান প্রবাসী মোঃ আব্দুল খালেক। তার তত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে এই তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদটি। যা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা।
