নিজস্ব সংবাদদাতা-মাইনুল ইসলাম ইমন
সালনা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন
থানা সীমানা: একদিকে বাসন থানা, অন্যদিকে গাজীপুর সদর থানা
এলাকার বৈশিষ্ট্য: ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, হাট-বাজার ও ছোট শিল্পকারখানা
একদিকে “মাটি চোর”, অন্যদিকে ইটভাটার কালো ধোঁয়া
গাজীপুরের সালনা এলাকায় বর্তমানে দুই ধরনের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে
একদিকে অবৈধভাবে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে বেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে কৃষিজমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কৃষক জানান, আগের মতো ফলন হচ্ছে না; গাছপালায় ফল ধরছে না কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত, পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী—
“মাটি কেটে নেওয়ার পর জমি আগের মতো উর্বর থাকে না। ধান-সবজি চাষে ক্ষতি হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ দূষণের কারণে আশেপাশের গাছপালা ও ফসলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংঘবদ্ধ চক্রের অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে। তাদের দাবি—
স্থানীয় কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমির মাটি নেওয়া হয়
রাতের অন্ধকারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাটি সরানো হয়
ইটভাটার সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন—
“এদের বিরুদ্ধে কথা বললে বিপদের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেকেই মুখ খুলতে চান না।”
প্রশাসনের বক্তব্য
থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়—
“সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা দাবি করছেন, প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। কারণ বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেই ঘটছে বলে তাদের ধারণা।
এলাকাবাসীর দাবি
১. অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে জরুরি অভিযান
২. ইটভাটার পরিবেশগত লাইসেন্স ও কার্যক্রম যাচাই
৩. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা
৪. নিয়মিত মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ
সার্বিক চিত্র
সালনা, যা একদিকে বাসন থানা ও অন্যদিকে সদর থানার মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ জনবসতিপূর্ণ এলাকা—সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ভূমি অফিস ও বাজার সংলগ্ন এলাকায় এভাবে মাটি কাটা ও দূষণের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করে।পরবর্তী নিউজে নাম, গাড়ির নাম্বার ও ফোন নাম্বার সবকিছু দিয়ে প্রকাশ করা হবে।
