মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, ময়মনসিংহ বিভাগের বিশেষ রিপোর্টারঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি যেমন খুশি তেমন সাজ অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার অনুরুপ সেজে বক্তৃতা দেওয়ায় ছাত্রীকে লাঞ্চিত, সহকারী শিক্ষক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে গার্ডিয়ান এর অভিযোগ।
২৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন নওপাড়া উচ্চ বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গার্ডিয়ান নিজে এসে অভিযোগ দাখিল করেন।
মোঃ লিংকন অভিযোগে লিখেছেন- ( আমি নবীনদল, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, কেন্দুয়া উপজেলা শাখা ) গ্রামঃ নওপাড়া, উপজেলাঃ কেন্দুয়া, জেলাঃ নেত্রকোণা। আমার মেয়ে ফাতেমা আক্তার মীরা অত্র প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
গত ০৯-০২-২০২৬ইং তারিখে আমার মেয়ে যেমন খুশি তেমন সাজো প্রোগ্রামে আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুরূপ সেজে বক্তৃতা দিতে গেলে ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ জিয়াউর রহমান তালুকদার ও তারসহযোগী কয়েকজন সহকারী শিক্ষকরা এতে বাধা দেয় এবং অসম্মান করে বের করে দেয়। আমিও অত্র বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম। সে মুহুতে আমিও আমার মেয়ে লজ্জায় অত্র অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি। চলে আসার পর আমি আমার ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের বিষয়টি অবহিত করি। গত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়।
এমতাবস্থায় আপনার কাছে আমার প্রার্থনা এই যে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঐ শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করছি।
প্রধান শিক্ষক হাফসা আক্তার বলেন- আমি ঘটনাটি শুনে মর্মাহত হয়েছি, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো। অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন- গার্ডিয়ান এর কাছ থেকে আমি কেন অভিযোগটি নিলাম এর জন্য আমার প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারী শিক্ষিকা ফাহমিদা ইয়াসিন (পপি) আমাকে প্রতিষ্ঠানে লাঞ্চিত করার চেষ্টা করে এবং অকত্যভাষায় গালিগালাজ করে।
উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়- জিয়াউর রহমান তালুকদার ও তার সহযোগী শরীর চর্চা শিক্ষক শহিদুজ্জামান (মিন্টু), সহকারী শিক্ষক আওয়ামী লীগের শাসনামলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম তাজুল এর সহযোগীতায় কর্তৃত্ব দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান লুটে খেয়েছেন। ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর স্কুল কমিটি পরিবর্তন হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনে আগের সুযোগ সুবিধা দিতে রাজি নয়। তাই প্রধান শিক্ষককে বেকায়দায় পালানোর জন্য বারবার হেয়পতিপন্ন করতে চেষ্টা করেন।
আরও জানা যায়- জিয়াউর রহমান (অপু), শহিদুজ্জামান (মিন্টু) আওয়ামী ছাত্র ও যুবলীগের নেতৃত্ব দিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কাছে থেকে ঘোষ ও চাঁদা আদায় করেছেন।
প্রকাশ্যে নাম না বলা একজন সহকারী শিক্ষক বলেন- আওয়ামী সরকারের আমলে আমি নিরবে শুধু তাদের কার্যকলাপ দেখেছি, কিছুই বলতে পারি নাই। আমি কিছু বললে চাকরি খেয়ে ফেলবে হুশিয়ারীও দেন আমাকে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি মনিরুজ্জামান শামীম যখন ঐ স্কুলের সভাপতি ছিল তখন তার ভাই শরীর চর্চা শিক্ষক শহিদুজ্জামান মিন্টু ও সহকারী শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, ফাহমিদা ইয়াসিন (পপি)সহ আরও অনেকেই নিয়োগ পায়।
