বিশেষ প্রতিবেদন ধারাবাহিক-৪
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ি কে লক্ষ্য করে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি এবং ভুয়া নথিপত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ‘আন্তর্জাতিক তহবিল কৃষি উন্নয়ন (ইফাদ)’, ‘ইফাদ ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প’ নাম ব্যবহারকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল—ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফরিদপুর, বরিশাল ও খুলনা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত সার্টিফিকেট, কর্মকর্তাদের আইডি কার্ড বাড়ির নাম্বার ছাড়া, জাতীয় পরিচয়পত্রর স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এগুলোকে নিয়ে তদন্ত করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতারক চক্রের সদস্যরা অফিস নম্বর থেকে মেসেজ, সরাসরি মোবাইল ফোন কল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আলোচনায় নিজেকে প্রতিষ্ঠানের অফিসার ও প্রতিষ্ঠানের কাগজের ভুল ধরলে What’sApps নাম্বার দিয়ে পুলিশ দারোগা হিসেবে সিক্রিতি দিয়ে ভালো ব্যবহার করে না। অপরাধীরা নিজেদের উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন ও বলেন যে বাংলাদেশ সরকারের অথরিটি নিযুক্ত অফিসার আমাদের নিযুক্ত কর্মকর্তা। আরো বলেন যে, আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তার মাধ্যমে সম্পর্ক রয়েছে, আমরা ঢাকা ক্লাবের সদস্য। অভিযোগকারীদের ফকির, হিয্লা, টোকাই, ফেরিওয়ালা ইত্যাদি বলেন এবং আদেশ না শুনলে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেয়।
তদন্তে জানা গেছে, একটি অনলাইন লিংকের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করে বড় অঙ্কের ঋণের নামে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোলিউশন বিভাগের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত সরকারি ছুটির দিনের ভুয়া চিঠিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখিতদের মধ্যে নিজেকে ‘এমসিও প্রধান, ইফাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রজেক্ট, বাংলাদেশ’ পরিচয়দানকারী একজনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের তথাকথিত লোন ম্যানেজার, লোন অফিসার, অর্থ ট্রান্সফার অফিসার, ইন্সুইরেন্স কোম্পানীর কর্মকর্তা ও ট্যাক্স অফিসার পরিচয়ে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের ব্যবহৃত নথিপত্র তদন্তে জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল অফিসের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ও অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর স্যার পিএস, বাংলাদেশ ব্যাংক মিডিয়া ডিপার্টমেন্ট ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিযুক্ত অফিসার অবগতির পর।
এ বিষয়ে র্যাব-১, সিপিসি-১, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট থানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব বাংলাদেশ পুলিশ ডিবি, সিআইডি, সিপিসি মালিবাগ কার্যালয় থেকে জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে একজনকে গ্রেফতার ও বিদেশি আসামি গ্রেফতার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভনে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
