মোঃ আমিরুল ইসলামঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যেই আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খুব শিগগিরই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যেই সম্পন্ন করার বিষয়ে কমিশনে আলোচনা হয়েছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের।
তিনি আরও জানান, শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পর অনুষ্ঠিত হবে।
৯০ দিনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
কোনো রাজনৈতিক দল একাধিক সাধারণ আসনে জয়ী হলে তবেই তারা সংরক্ষিত নারী আসন পায়; স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এককভাবে নারী আসন পান না।
দলভিত্তিক আসন চিত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৯টি আসন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন
গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ১টি আসন
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) পেয়েছে ১টি আসন
গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১টি আসন
খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন
অন্যদিকে জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান
চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের বিধান সংযুক্ত করা হয়। জাতীয় সংসদের ৩০০টি সাধারণ আসনে বিজয়ী সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হন।
সে হিসাবে, প্রতি ছয়জন সাধারণ আসনের এমপির বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান রাখা হয়েছে।
