সুমন আহমদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার আশা থাকলেও, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোজ্যতেলসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ করে বলেন:- বাজারে কোনো কারণ ছাড়াই পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে যা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আশা করেছিলাম রমজানে দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট আর সরবরাহ সংকটের অজুহাত দিয়ে পকেট কাটছে। আমাদের এখন খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক ব্যবসায়ীরা জানান:-বাজারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কণ্ঠেও ঝরছে হতাশা। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে বাজারে আগের মতো ভিড় নেই এবং বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। অনেকে লোকসানের ভয়ে নতুন করে মালামাল তুলছেন না বলেও জানান।
উপজেলার বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের থেকে চিত্র দেখা গেছে:- বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এর সাথে কথা বলে তারা জানান বাজারের এই সংকটময় সময়ে কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে স্থানীয় বিভিন্ন মানবিক ও সেবামূলক সংগঠন এগিয়ে এসেছে। অনেক সংগঠন এরই মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু করেছে। তবে সরকারিভাবে কঠোর বাজার মনিটরিং ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানান:- আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কোনো ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াতে না পারে,সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা ঝোলানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা আইন অমান্য করে অতিরিক্ত দাম রাখছেন,তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়,আসন্ন দিনগুলোতে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে যেন সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয় করতে পারেন।
