মোঃ আমিরুল ইসলাম:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ হতে না হতেই এবার তিন মহানগরীর নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পাওয়া গেছে। ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।
ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কমিশন সব সময় নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত থাকে। তবে ঈদের মধ্যে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ঈদের পর আয়োজন করা হবে।
তিন সিটির মেয়াদ পরিস্থিতি
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
—এই তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়ে চিঠি এসেছে এবং তা কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,
২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসেবে গত বছরের ১ জুন মেয়াদ শেষ হয়েছে।
২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন।
২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।
আইনি বাধ্যবাধকতা
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা করা হয় এবং মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে আলোকে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালনা
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে আদালতের আদেশে শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
