নিজস্ব সংবাদদাতা-মাইনুল ইসলাম ইমন
কেন্দুয়ায় বসতবাড়িতে হামলা ও লুটের অভিযোগ, তদন্ত না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার”—শিরোনামে আমার করা সংবাদ প্রকাশের পর নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া) এলাকার এক উপজেলা সাংবাদিক প্রতিনিধির সঙ্গে আমার কথার কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।
প্রথমেই বলি, নেত্রকোনা ৩ কেন্দুয়ার নিউজ আমরা করলে কারও ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। সংবাদ প্রকাশ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া অধিকার নয়। আপনারা করবেন, আমরাও করবো—এটাই স্বাভাবিক। নিউজ করা কি অপরাধ? যদি সঠিক তথ্য ও প্রমাণ থাকে, তাহলে সংবাদ প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব।
নির্বাচনের আগে আপনার উপজেলায় ৫ জন সাংবাদিক ১২ ঘণ্টা বন্দি ছিলেন—তখন কেন আপনারা সোচ্চার হননি? কেন প্রতিবাদ করেননি? একজন সাংবাদিক হিসেবে কি সেটি আপনাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? যখন সহকর্মী সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হন, তখন নীরব থাকা কি পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
আপনারা বলেন, আপনারা নিউজ করতে পারলে আমরা কেন করবো? নেত্রকোনা ৩ কেন্দুয়ার নিউজ করার দরকার কী। আমি বলি, সাংবাদিকতার কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। আমরা ঢাকায় কর্মরত হলেই নেত্রকোনা ৩ কেন্দুয়ার সংবাদ করতে পারবো না—এমন কোনো নিয়ম নেই। সঠিক তথ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকলে যেকোনো সাংবাদিকই যেকোনো এলাকার সংবাদ করতে পারেন।
আপনি বলেন, দূর থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না; সরেজমিনে না গেলে সত্য জানা যায় না। কিন্তু তাহলে আমি, সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম ইমন, তথ্য পেলাম কীভাবে? তথ্য তো বিভিন্ন সূত্র, নথি, প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় অনুসন্ধান থেকেই আসে। তথ্য ছাড়া কখনো সংবাদ হয় না—এটা সবাই জানে। তাই “দূরে থাকলে নিউজ করা যাবে না”—এই যুক্তি বাস্তবসম্মত নয়।
আমি কেবল বলেছি—আপনার কাছে যদি তথ্য থাকে, আমাকে জানান। আমি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করবো। এতে আপনার ক্ষতি কোথায়? আপনি তো নিয়মিত নিউজ করেন না—এমন অভিযোগও আছে। আপনি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সময় দেন—এটাও আপনার বিষয়। কিন্তু তাই বলে অন্য কেউ সংবাদ করলে আপত্তি কেন?
নির্বাচনের আগে আমি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলাম—এটা সত্য। আমি শুধু সাংবাদিক নই, একজন রাজনৈতিক কর্মীও। আমার প্রিয় নেতা যখন দলীয় মনোনীত প্রার্থী, তখন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করাটা আমার কর্তব্য ছিল। আমি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির তথ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতির দায়িত্বেও আছি। নির্বাচনের সময় চাপ ছিল, কিন্তু এখন নির্বাচন শেষ। এখন আমি সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনেই মনোযোগী।
মূল প্রশ্ন হলো—নির্বাচনের আগে ৫ জন সাংবাদিক ১২ ঘণ্টা বন্দি ছিলেন। কেন তখন প্রতিবাদ হয়নি? কেন সংবাদ হয়নি? সাংবাদিক সমাজ কি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে জিম্মি? প্রেসক্লাব কি জিম্মি? যদি তা-ই হয়, তাহলে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আমার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে—আমি নাকি রাগ করে নিউজ করছি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি রাগ বা কোনো গোপন সমঝোতার রাজনীতি বুঝি না। আমি শুধু সত্য বুঝি। সত্য উন্মোচনই আমার লক্ষ্য। ব্যক্তি যেই হোক, অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে কলম চলবে।
আমি, মাইনুল ইসলাম ইমন, সঠিক তথ্য ও প্রমাণ পেলে সংবাদ প্রকাশ করবো। হুমকি-ধমকি দিয়ে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি অধিকার এবং দায়িত্ব দুটোই।
আমি বিভাজন চাই না, সহযোগিতা চাই। সত্যের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। কারণ শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি নয়—সত্যই টিকে থাকে।
