বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (ধারাবাহিক-৩ চলমান)
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা
অনলাইন ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র জনগণকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত ‘ইফাদ’ নাম ব্যবহারকারী চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত চলাকালেও অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েই যাচ্ছে। নিজেকে লোন অফিসার ও ফান্ড ট্রান্সফার কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী রাখি খাতুন অভিযোগকারীকে ফোনে চ্যালেঞ্জ করে লিখিত চিঠি দিয়ে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন
গতকাল এই বিষয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে মালিবাগ সিপিসি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ জানান, ইতোমধ্যে একজন গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া র্যাব-১, সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার এবং র্যাব-১০ সিপিসি-৩ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীর প্রতি সরাসরি হুমকি
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায় অভিযুক্ত রাখি খাতুন লিখিত বার্তার মাধ্যমে অভিযোগকারীকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন:
“মামলা দিয়ে কি করেছেন”?
আমাদের কিছুই করতে পারবেন না।
আমরা বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন করি।”
এছাড়াও তিনি অভিযোগকারীর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এই হুমকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভুয়া পরিচয়পত্র ও অসঙ্গতির অভিযোগ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাখি খাতুনের ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি দাবি করেছেন, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি তার স্বামীর নামে নিবন্ধিত এবং বিয়ের আগে বর্তমান স্বামী তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করেছেন।
তার দেওয়া পরিচয় তথ্য:
নাম: রাখি খাতুন (RAKHIA KHATUN)
পিতা: উজ্জবল পামানিক
মাতা: মোছাঃ রোবেকা বেগম
ঠিকানা: নোয়া বাড়ি-১০০, গ্রাম: আইয়ুবপুর, ডাকঘর: জয়নরায়ণপুর, থানা: জলপুর, জেলা: পাবনা
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: 3767908077
জন্মতারিখ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৪
‘ইফাদ’ নাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ প্রতারণা
অভিযোগ রয়েছে, প্রতারক চক্রটি ‘ইফাদ ফাউন্ডেশন’, ‘আন্তর্জাতিক তহবিল কৃষি উন্নয়ন (ইফাদ)’, ‘ইফাদ ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প’ এবং ‘ইফাদ মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট ও অনুমোদন ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রতারণার কৌশল
ইতালি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল—ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, গাজীপুর, ফরিদপুর, যশোর, বরিশাল ও খুলনা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
অফিসিয়াল নম্বর থেকে এসএমএস ও ফোনকল
হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ
সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার দাবি
ভুয়া আইডি কার্ড ও সার্টিফিকেট প্রদর্শন
তদন্ত চলমান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
