শেখ মনিরুল ইসলাম, খুলনা থেকেঃ
খুলনা’র দিঘলিয়া উপজেলায় সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একচেটিয়া ভোটে বাজিমাত করলেন খুলনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। নৌকার ঘাঁটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিজয়ে উচ্ছ্বসিত নেতা-কর্মীরা । দিঘলিয়া উপজেলায় বিএনপি রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্ব বেড়েছে নবাগত সাংসদের।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামীলীগ অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে পরিচয় সংসদীয় আসন খুলনা-৪। আসনটি রূপসা -তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত।
গত ১২ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ১লাখ ২৩ হাজার ১শ’৬২ ভোট পেয়ে প্রথম বারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন পেয়েছেন ১লাখ ৯হাজার ৫শ’৩০ ভোট।
দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের ডোমরা গ্রাম। গ্রামটিতে ৯৫% সনাতন ধর্মালম্বীদের বসবাস। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২১৭৬টি। ভোট পড়েছে ১৫১৮টি। এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল পেয়েছেন ১৩৭০ ভোট। আর জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলের প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন পেয়েছেন মাত্র ৯০ ভোট। ইউনিয়নটিতে মোট ভোট সংখ্যা ১৬,৪৪৬টি। মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ১১,১০৩টি। এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৭,৯১৯টি।আর দেয়াল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছে মাত্র ২,৫২৬ টি ভোট। গাজীরহাট ইউনিয়নে ৫,৩৯৩ ভোট বেশি পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক এগিয়ে যায়। আবালগাতীতে ৯৫%, ডোমরা ৯০% সোনাকুর গ্রামে ৭৫% সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাস। গ্রাম গুলোর প্রায় শতভাগ ভোট ধানের শীষ প্রতিকে পড়েছে।
পার্শ্ববর্তী বারাকপুর ইউনিয়নে ৯৯% হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা আড়ুয়া গ্রাম। এগ্রামের দু,টি কেন্দ্রে বিভক্ত। আড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩১৯। এরমধ্যে ৬৯৮ ভোট পেয়েছে ধানের শীষ। মাত্র ৬০ভোট পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।
অন্যদিকে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা বারাকপুর গ্রাম। এখানের বারাকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটির ফলাফলে দেখা গেছে, দেয়াল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছে ১৯০১ ভোট। ধানের শীষে প্রতীক পেয়েছে ৮২৭ ভোট।
বারাকপুর ইউনিয়নে পিছিয়ে পড়া এই ভোটের ব্যবধান কমিয়ে বিজয়ের পথে অগ্রসর করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী এলাকা আড়ুয়া,লক্ষীকাঠি আমবাড়িয়া, রাধামাধবপুর, কামারগাতি,নন্দন প্রতাপ ও বোয়ালিয়ারচর গ্রামের হিন্দু ভোটারা।
পক্ষান্তরে দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে ধানের শীষ প্রতীক পরাজিত হয়।
সেনহাটী ইউনিয়নের বাতিভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মাত্র ৫ভোট, স্টার জুট মিলস সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫২ভোট ও চন্দনীমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মাত্র ২ ভোটে জয়লাভ করে ধানের শীষ প্রতীক।
দিঘলিয়া ও সেনহাটী ইউনিয়নে পিছিয়ে পড়া ভোটের ব্যবধান কমিয়ে দেয় গাজীরহাট ও বারাকপুর ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা। যেকারনে গোটা উপজেলায় ২হাজারের অধিক বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করে।
অন্যদিকে দিঘলিয়া ও সেনহাটী ইউনিয়নে ধানের শীষের ভোট বিপর্যয়ের কারণ খুঁজছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সনাতন ধর্মাবলম্বী এক নেতা পূর্বাঞ্চলকে বলেন, আমরা প্রমান করেছি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা আপোষহীন। দেশের কাছে নিরাপত্তা ছাড়া আমাদের কিছুই চাওয়ার নেই।
