মোঃ নাহিদ ইসলাম (জয়) ক্রাইম রিপোর্টার নাটোর জেলাঃ
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় স্থানীয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও বিএনপির এক ওয়ার্ড সভাপতিও রয়েছেন। শনিবার (সকাল সাড়ে ১০টা) উপজেলার ধানাইদহ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিলেন। এর জের ধরেই শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা ধানাইদহ এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেন এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং গুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন নগর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাসিনুর রহমান। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাব সরকারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেনা কমান্ডারও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।” তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেত উদ্বেগ বিরাজ করছে। বাজার ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। তবে দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং দোকানপাট খুলতে দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সংঘর্ষ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতির দিকে না যায়, সেজন্য প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
