মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী ,
খুলনা বিভাগীয় প্রধানঃ
পবিত্র রমজানের হাতছানি দরজায়, কিন্তু বাজারে আগুনের উত্তাপে নিম্নআয়ের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। সেই দুশ্চিন্তা মুছে দিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপার বিজুলিয়া গ্রামে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটালো স্থানীয় তরুণ ও প্রবাসীদের সংগঠন ‘বিজুলিয়া কল্যাণমূলক ফাউন্ডেশন’। সোমবার বিকেলে এক আবেগঘন পরিবেশে গ্রামের ২০০টি পরিবারের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হলো ইফতার ও খাদ্যসামগ্রীর উপহার।
গ্রামের ঈদগাহ মাঠে যখন সারিবদ্ধভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছিল, তখন অনেকের চোখেই ছিল কৃতজ্ঞতার জল। প্রতিটি প্যাকেটে থাকা চাল, ডাল, তেল, ছোলা আর খেজুর যেন শুধু খাদ্য নয়, বরং ছিল এক টুকরো ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার আশ্বাস।
খাদ্যসহায়তা নিতে আসা দিনমজুর শহিদুল তার আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। ধরা গলায় তিনি বলেন, “জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে এবার রোজা রাখা নিয়ে খুব ডরে (ভয়ে) ছিলাম। আজ এই চাল-ডাল আর তেল পেয়ে বুকটা হালকা হলো। আল্লাহ যেন এই পোলাপানদের ভালো করেন।”
সংগঠনের পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম জামাতুল্লাহ জানান, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ, ভ্যানচালক এবং প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো টাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এই ফাউন্ডেশন। তিনি বলেন, “আমরা চাই না, অর্থের অভাবে আমার গ্রামের কোনো মানুষের সেহরি কিংবা ইফতার অপূর্ণ থাকুক। প্রতিবেশীর মুখে হাসি ফোটাতেই আমাদের এই পথচলা।”
স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমান সময়ে যেখানে মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, সেখানে বিজুলিয়া গ্রামের তরুণদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শুধু খাদ্য নয়, আগামীতে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণেও এই সংগঠনটি গ্রামের মানুষের ছায়া হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
