মোঃ রাসেল আহমেদ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এ নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জনাব লুৎফুজ্জামান বাবর অভূতপূর্ব ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ কারাজীবন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তাঁর এই বিজয়কে সমর্থকরা “জনতার রায় ও ন্যায়ের জয়” হিসেবে অভিহিত করছেন।
গরিব ও মেহনতী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু, আপোষহীন সংগ্রামী নেতা এবং ভাটি বাংলার ‘সিংহ পুরুষ’ হিসেবে পরিচিত বাবর বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় নতুন উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; বরং দীর্ঘদিনের আস্থা, ভালোবাসা ও সংগ্রামের স্বীকৃতি।
বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মোট ১,৬০,৩৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯,৩০৯ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ১,২১,০৪২ ভোটের বিশাল ব্যবধান এ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩,৭৫,৩০৮ ভোটারের এই আসনে ১৪৯টি ভোটকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে নানা মামলা, গ্রেফতার ও কারা নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তিনি গ্রেফতার হন। তবে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে রাজনীতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে সমর্থকরা দৃঢ় মনোবল ও সংগ্রামী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
এর আগে তিনি সফলভাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নেত্রকোনা-৪ আসনের অনেক সাধারণ ভোটার ও সমর্থক এখন তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল, সমাবেশ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূমিধ্বস বিজয় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে এবং বাবরের সংসদে প্রত্যাবর্তন একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
