মোঃ সাইফুল ইসলাম, আশুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নারী আনারকলি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. জসিম উদ্দিন। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মো. জসিম উদ্দিন জানান, সোনারামপুর মৌজার সাবেক ২২৩ ও ১৯২ নম্বর দাগ, বর্তমানে ১৮৬৮ নম্বর দাগে অবস্থিত বিএস নং-২০০ অনুযায়ী মোট ১২ শতক পৈত্রিক জমির বৈধ মালিক তিনি ও তার ভাই-বোনেরা। তবে গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রতিবেশী আনারকলি (পিতা—গিয়াস উদ্দিন) তার পূর্বের স্বামীর আত্মীয়স্বজনসহ কয়েকজন লোক নিয়ে জোরপূর্বক প্রায় ৩ শতক জমি দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, জমি দখলে বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-১৮৩৭/২৫)। আদালত ও আশুগঞ্জ থানা থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হলেও তা অমান্য করে তারা জমিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মো. জসিম উদ্দিন আরও বলেন, মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আনারকলি ও তার সহযোগীরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৪/১১৭(গ) ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন (পি-৩২/২০২৬)।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আনারকলি অতীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম ভাঙিয়ে সরকারি ও রেলওয়ের জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ২০২২ সালের মে মাসে আশুগঞ্জ গোলচত্বরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলেও দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় (সি.আর-৪১৭/২০২৪) আনারকলি প্রধান আসামি। একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আনারকলির কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও তৎকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
