রিপোর্টার-মাইনুল ইসলাম ইমন
নেত্রকোনা–৩ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
নেত্রকোনা–৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) সংসদীয় আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব রফিকুল ইসলাম হিলালী–এর বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। অভিযোগটি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব রফিকুল ইসলাম হিলালী ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন—
ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি পেতে হলে বিএনপির এমপির ডিও (D.O.) লেটার প্রয়োজন হবে এবং তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত না করলে ভোটারদের ছেলে-মেয়েরা সরকারি চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ডিও লেটার দিয়ে কোনো সরকারি চাকরি বা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উক্ত বক্তব্যটি বিএনপি প্রার্থীর সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও প্রিন্ট গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে হেয় করা হয়েছে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ভুল তথ্য ও মিথ্যা প্রলোভন দেওয়া হয়েছে এবং উস্কানিমূলক ও তিক্ত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ভোটারদের মধ্যে মনঃক্ষুণ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
এই কর্মকাণ্ড জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধিমালা, ২০২৫–এর
বিধি ১৬(গ) — সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার
বিধি ১৬(ঘ) — প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য
বিধি ১৫(ক) — তিক্ত ও উস্কানিমূলক ভাষার ব্যবহার
এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ডিও লেটারের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং এটি আইনের শাসন, সুশাসন ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিষয়টি জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী।
এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, সরকারি গাছ কেটে আত্মসাৎ, এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে সাংবাদিকদের আটকে রাখার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি বিএনপির স্থানীয় ওয়ার্ড অফিসে পাঁচজন সাংবাদিককে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাদের উদ্ধার করা হয়।
কেন্দুয়া ও নেত্রকোনার একাধিক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সাংবাদিকদের বন্দি করার ঘটনা নির্বাচনকে কার্যত “নির্বাচনবন্দী” করে ফেলে। নির্বাচনপূর্ব সময়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি।
এছাড়াও গোপন সূত্রের বরাতে অভিযোগে বলা হয়, নেত্রকোনা–৩ আসনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী হওয়ায় বিষয়টি যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
