রওশন বাবু
বিশেষ প্রতিনিধি, রংপুরঃ
রংপুরে রেক্টিফাইড স্পিরিট (মদ) পান করে মাদক বিক্রেতাসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন, যারা আইনগত জটিলতার ভয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার অভিজিৎ চৌধুরী জানান, বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন বন্দি হিসেবে কারাগারে নেওয়া হয়। কারাগারে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হলে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জয়নাল আবেদীন নিজেও রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করেছিলেন।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি।
একই ধরনের ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর বালারবাজার এলাকায় অ্যালকোহল পান করে অসুস্থ হন সদর কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। পরদিন দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া এই বিষক্রিয়ার ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তি বিভিন্ন স্থানে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।
ঘটনাটি রংপুরজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।
