মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী ,
খুলনা বিভাগীয় প্রধানঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর বাজারে বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্যে মাইকিং করা হলেও উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, বাজারের নতুন ইজারাদার বর্জ্য পরিষ্কারের ঘোষনা দিয়ে প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ীদের স্থাপনা উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। আর এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বাজারের ইজাদার।
জানা গেছে, কুসুমপুর বাজারে সরকারি খাস জমিতে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করছেন অনেকে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরাও তাদের জমির পার্শ্ববর্তী খাস জমি দখলে রেখে দোকান-পাট গড়ে তুলেছেন।
বাজারের একপাশে খাস জমিতে ফেলা হয় বর্জ্য। যা পরিষ্কারের জন্য কুসুমপুর ভূমি অফিস গত শুক্রবার মাইকিং করে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের নতুন ইজাদার ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের একটি অংশ কৌশলে কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করতেই বর্জ্য পরিষ্কার করার মাইকিং করিয়েছে। স্থানীয় কুসুমপুর ভূমি অফিসের যোগসাজশে কৌশলে কয়েকজনের স্থাপনা উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, কুসুমপুর বাজারে সরকারি খাস জমিত হাতিয়ে নিতে ষড়যন্ত্র করছেন ফার্মেসী ব্যবসায়ী জু়লফিকার আলী জুলু। তিনি সীমান্তে এহেন কোন অপর্কম নেই যা করেন না। বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে জুলূ সীমান্তের গডফাদার বনে গেছেন।
এদিকে বাজারের জমি শামসুল হক বদো, জালাল উদ্দীন বিশ্বাস, কুতুব উদ্দীন বিশ্বাস, মহিউদ্দীন বিশ্বাস, সিদ্দিকুর রহমান, আনারুল মাস্টার, মাসুদ আলী, মো. নয়ন, সালাউদ্দিন জুয়েল, মো. রহমান, জাহাঙ্গীর আলী, মন্টু মন্ডল, মোমিন রহমান, ফরজান আলী ও রবিউল ইসলাম রবলের দখলে রয়েছে বলে সুত্র জানায়।
এসব ব্যবসায়ীরা কেউ আংশিক, কেউ সম্পূর্ণ খাস জমি দখলে নিয়ে দোকান-পাট গড়ে তুলেছেন। তবে সরকারি ভাবে জমি বা দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলে কোটি টাকার রাজস্ব পেতো সরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের খাস জমি কমবেশি অনেকেই ব্যবহার করছে। দখল উচ্ছেদ করতে হলে সবার স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা আর্থিক লেনদেনের সুপ্ত খায়েশ মেটাতে একটা পক্ষ বর্জ্য পরিষ্কারের নামে বাজারের কয়েকজনের দখলে থাকা জমি দখল করার পায়তারা করছে। এটা হলে বাজারে সংঘাত-সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ব্যাপারে কুসুমপুর বাজারের ফার্মেসী ব্যবসায়ী জু়লফিকার আলী জুলু বলেন, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমিতে দোকান দিয়ে ব্যবসা করে খাচ্ছে। কিন্তু এমন জায়গাও বাজারে আছে, যে জায়গা দখল করে দু’একজন লোক ভাগাড় বানিয়ে রেখেছে। খাস জমিতে পরিত্যক্ত দোকান পড়ে আছে। এসব জায়গা উদ্ধার করা গেলে নতুন করে দোকান করা যাবে। তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কুসুমপুর ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, কুসুমপুর বাজারের বর্জ্য ও ময়লা পরিষ্কার করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমস্ত উপজেলায় একযোগে মাইকিং হওয়ার কথা। পরিচ্ছন্নতা মহেশপুর উপজেলার সব বাজারেই বহবে। স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য কোনো মাইকিং করা
হয়নি তিনি আরও বলেন, বাজার সংলগ্ন খাস জমিতে অনেকেই দোকান পাট দিয়েছেন। সেগুলো নিয়মের মধ্যে আনতে দ্রুত সরকারী ভাবে মাপজোখ করা হবে। তিনি বলেন আপাতত কোনো দোকান উচ্ছেদ করার নির্দেশনা আমাদের ওপর নেই।
বিষয়টি নিয়ে মহেশপুর উপজেলা ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন,
বর্জ্য অপসারণের নামে জমি দখলের কোন
সুযোগ নেই।
তবে আপনাদের মাধ্যমে এই প্রথম এমন
অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হলাম। এ বিষয়ে কুসুমপুর ভূমি অফিসের সহকারী
কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হবে, যাতে কেউ অবৈধভাবে খাস জমি দখল করতে না পারে।
